ওষুধ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রেনাটা পিএলসির রাজেন্দ্রপুরের কারখানা তুরস্কের মেডিসিনর অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস এজেন্সির অনুমোদন পেয়েছে। ফলে তুরস্কে রেনাটার ওষুধ সরবরাহের পথ সুগম হলো। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।
তথ্যানুসারে, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত তুরস্ক রেনাটার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। এ অনুমোদনের ফলে কোম্পানিটির আন্তঃমহাদেশীয় পদচারণ আরো সংহত হবে। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে রেনাটা। সামনের বছরের মধ্যে তুরস্কে পারকিরসন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আমান্টাডিন ওষুদের অনুমোদন পাওয়ার প্রত্যাশা করছে কোম্পানিটি, যা এ অঞ্চলে রেনাটার বাণিজ্যিক সম্প্রসারণকে সাহায্য করবে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেনাটার ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৪৭ পয়সা, আগের বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৫ টাকা ১৯ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩১২ টাকা ১ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে রেনাটার শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৯ টাকা ৩৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩১ টাকা ৫৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩০৫ টাকা ৪৯ পয়সায়।
ডিএসইতে গতকাল রেনাটার শেয়ার সর্বশেষ ৩৮৩ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৩৭২ থেকে ৬৩৪ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৯২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে রেনাটার ইপিএস হয়েছে ৩১ টাকা ৫৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২০ টাকা ৪০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৯৫ টাকা ৫৬ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে রেনাটার ইপিএস হয়েছে ২০ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৪ টাকা ৫৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬৬ টাকা ৮৭ পয়সায়।
রেনাটার সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি ওয়ান’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ৭ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং পিএলসি (আলফা রেটিং)।
১৯৭৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রেনাটা পিএলসি ১৯৭২ সালে মার্কিন ওষুধ জায়ান্ট ফাইজারের একটি কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশে যাত্রা করে। ১৯৯৩ সালে ফাইজার স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের কাছে তাদের মালিকানা বিক্রি করে চলে যায় এবং কোম্পানির নাম ফাইজার (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বদলে হয় রেনাটা লিমিটেড। বর্তমান নাম রেনাটা পিএলসি। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৮৫ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩ হাজার ৩৯১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯০। এর ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২২ দশমিক শূন্য ৪, বিদেশী বিনিয়োগকারী ১৮ দশমিক ৭২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।